পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অজয় নদীর তীরে

ছবি
পদপল্লব মুদারম ও জয়দেব মেলা বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায় । কবি জয়দেব তাঁর কাব্যগ্রন্থে ‘স্মরগরল খণ্ডনং, মম শিরসি মণ্ডনং, দেহি পদপল্লব মুদারম’ (তোমার গরল নাশকারী চরণপদ্ম আমার মাথায় দাও, আমার দেহমনের বিরহ শীতল হোক )। এই একটি লাইন লেখার জন্য যে ব্যাকুলতা দেখিয়েছিলেন। সে ব্যাকুলতাকে উপলব্ধি করার একটা ভাবনা এসেছিল মাথায় । এবার আমি জয়দেব মেলায় যাবো । দেখে আসবো জয়দেবের ভূমি । অজয় নদ ।  লক্ষ্মণ সেনের গড় । তখন আমি তরুণ তুর্কি । একা একা চলে যাই  অচেনা গ্রামে । কাঁধে ব্যাগ সঙ্গে কবিতার বই । কাগজ কিছু । একটা গামছা । যে সব বন্ধুরা টিউশন করত তাদের কাছেই  হাত পেতে  চেয়ে নিতাম কিছু টাকা ।  কবি জয়দেবের মন্দির  তখন মাথায় গিজগিজ করতো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।  শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের  ঘুণপোকা আমার মাথায় কুড়ে খেত। এই বুঝি ফজল আলি আসছে । মাথায় মেঘ ঢুকে পড়বে । তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে আমাদের বাড়ির একটা সুসম্পর্ক ছিলো। ছোট বেলায় দেখেছি ওনাকে আমাদের বাড়িতে । সেই বীরভূমের লাভপুরে তার বাড়ি। বীরভূম আমার কাছে খুবই  প্রিয় জায়গা । এর মধ্যে হলো কি সমরেশ বসুর সাথেও আলাপ...

ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ

ছবি
  বিদেশ । দেনপাসারের বালি  বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায় প্রথমে ভেবেছিলাম। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা যাব। পরে ঠিক করলাম জাকার্তা কেন যাব? ইন্দোনেশিয়া যদি যেতেই হয় তবে বালি যাব। বালি দ্বীপে যেতে মন টানে, কেননা কোথাও যেন একটা টান অনুভব করি। মনে হয় সেখানে রামায়ণ আছে। শিল্প আছে। অসাধারণ সব সীবিচ আছে। প্রাচীন বালিতে পসুপ্ত, ভৈরব, শিব সিদান্ত, বৈষ্ণব, বৌদ্ধ, ব্রহ্মা, ঋষি, সরা ও গণপতি শুধু যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের আবাস ছিল তা নয় প্রত্যেক সম্প্রদায়ের লোকজন তাঁদের নির্দিষ্ট দেবতার পুজো দিতেন। বালীয় সংস্কৃতির পুরোটাই ভারতীয়। তবে চীনাদের দ্বারা প্রভাবান্বিত। প্রথম শতক থেকে হিন্দু সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে।   বালির সিম্বল। বাড়ির গেট। প্রাচীন ও আধুনিক নৃত্যকলা, ভাস্কর্য, চিত্রকলা, চামড়া, ধাতবশিল্প ও সঙ্গীতের মতো উচ্চ পর্যায়ের শিল্পকলা  শহরে বিশেষ গুরুত্বতা পেয়েছে। সাংবার্ষিক ইন্দোনেশীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এখানে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি প্রধান একটি দ্বীপ  শতকের গোড়ার দিকে পর্যটন শিল্পের দিকে ঝুঁকে পড়ে । সীতা উদ্ধারের জন্য রামচন্দ্র সুগ্রীবের সাথে মিত্রতা করেন। শর্ত স্থির...

পথে পথে ভ্রমণ

ছবি
পথের সাথে পথের মাঝে বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায় ॥ তিনি বলেছিলেন না ,পথের শেষ কোথায় ? এই সত্য মাঝে   মাঝে চমকে দেয় । সত্য উপলব্ধির পেছনে গোলকধাঁধার মত ঘোরা।কখনো জলযাত্রা ,কখনো বা চড়াই-উতরাইয়ের পথে ।মাঝে মাঝেই বৈরাগীর বুকের ভেতর লুকিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে, এই সত্য কে বুঝে। ইচ্ছে করে পালিয়ে  যেতে। রাতের ট্রেনে চেপে ঘন ধোঁয়া  ভেতরে। কিন্তু যাব কোথায় ? চল বিহারে ? কোন বিহারে? সারা ভুবন জুড়েই তো বিহার ! আহার আর বিহার এই করেই তো জীবন কেটে গেলো । ভাবি কৃষ্ণের পথে যাব । সেখানেও জটিলতা আছে । ন্যাড়া বোষ্টমী লাগে । বৃন্দাবনের পথে যাব পথ দেখাবে কে ?   পথ চলেছে বৈরাগীদের বুকে   ঘুমের ঘোরে দেখলাম যারে  চেতন হয়ে পাইনে তারে। লুকাইলে কোন শহরে নব রসের রাসবিহারী।।মেঘে যেমন চাতকেরে দেখা দিয়ে ফাঁকে ফেরে। লালন বলে তাই আমারে করলো গৌর বরাবরই।। বৃন্দাবনের পথে গেলে অনেক সাধনা করতে হবে , হাতে অতো সময় কোথায় ? যাক একটু পুরাণের পথ ধরেই হাঁটি সেখানে একটু অমৃত যদি পাওয়া যায় ? আমার যাত্রা এবার অমৃতের পাদদেশে । মরিতে চাহিনা এই সুন্দর ভুবনে । অমৃত তো পাবোনা !  ঘ্রাণে যদি ...