পোস্টগুলি

লংসোকাংথু।

ছবি
  লংসোকাংথু। বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায়। অসমের নতুন নতুন জায়গা গুলোর নাম উ চ্চারণ করতে দাঁত ভেঙে যায়। কার্বি অংলং এসে সাধারণ মানুষকে বোঝাতেই পারছি না। কিভাবে কোথায় যাব। কেননা আমাদের উচ্চারণের সঙ্গে তাদের উচ্চারণ এতটাই পার্থক্য যে জায়গাটার নাম পাল্টে যাচ্ছে। যেহেতু এই মানুষগুলো একসময় প্রাচীন তিব্বত অঞ্চল থেকে এখানে এসেছিলো তাই তাঁদের নাম  তিব্বতি ঘেসা ও বড় খটমট। “লং” সাধারণত জায়গা বা ভূমি বোঝায় “সোকাং/সোকাংথু” অংশটি কোনো নির্দিষ্ট স্থান, গ্রাম বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে। “লংসোকাংথু” মোটামুটি অর্থে কোনো নির্দিষ্ট পাহাড়ি জায়গা, গ্রাম বা প্রাকৃতিক স্পটের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়—বিশেষ করে জলপ্রপাত বা ভিউ পয়েন্টের মতো জায়গার ক্ষেত্রে। সিলোনি বললে লোকে এক কথায় চিনে যায়। লোকাল মানুষ এই জায়গাটিকে সিলোনি বলেন। কিন্তু এখানে এসে লংসোকাংথুত নামটা শুনলেই যেন কানে ভেসে আসে জলের মৃদু স্রোতের শব্দ, আর চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবুজ পাহাড়ে মোড়া এক শান্ত পৃথিবী। দিফু শহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে এই ছোট্ট অথচ অপূর্ব স্থানটি এমন এক অভিজ্ঞতা দেয়, যা শহুরে ব্যস্ততার বাইরে গিয়ে মনকে ধীরে ধী...

ল্যাংভোকু জলপ্রপাত

ছবি
  ল্যাংভোকু জলপ্রপাত বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায়  ডিফু রেলওয়ে স্টেশনে নেমে , চায়ের দোকানে জিজ্ঞেস করলাম আমি কার্বি আংলং  যাব। মিষ্টির দোকানের মালিক আমার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন এটাই তো সেই জায়গা,আপনি কোথায় যাবেন। আপনি তো কার্বি আংলং আছেন। খুব ভোরে লামডিং স্টেশনে এসেচি। ভোর তখন সাড়ে চারটে। ডিপু যাওয়ার গাড়ি ৭ টা ১৫। সকাল ছয়টার আগে টিকিট কাউন্টার থেকে ডিপু যাওয়ার টিকিট দেয়া হবে না। ছটার সময় আমরা টিকিট কেটে ট্রেনে উঠে বসলাম। ট্রেনটা যে কি অসাধারণ তা বলে প্রকাশ করা যাবে না। সারা ট্রেনের গায়ে আসামের বিভিন্ন রকম সংস্কৃতি মন্দির চা বাগান এত সুন্দর করে একে রাখা হয়েছে। দেখলেই মন ভরে যাবে।  আমরা ঠিক সাড়ে আটটার সময় এসে পৌছালাম ডিফুতে। এখান থেকে সোজা সিংহাসন হোটেলে। আমরা ঠিক করলাম আজ দুটো জায়গা দেখতে যাব একটি জলপ্রপাত আরেকটি নদী। হোটেল থেকে বেরিয়ে চলে এলাম  মাটি বং তেনালি। এখান থেকে আমরা যাব অটো করে জলপ্রপাত দেখতে।        কার্বি নিজস্ব একটা ভাষা আছে।কার্বি একটি জন জাতি। আসামে সবচেয়ে বড় জেলা বলা হয় কার্বি অ্যাংলং ...

হাম্পি।

ছবি
  হাম্পি। বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায়। কোনো এক স্তব্ধ সন্ধ্যায়, আকাশে সূর্য যখন অস্ত গিয়াছে কিন্তু নক্ষত্র পরিস্ফুট হয় নাই, সেই সন্ধিক্ষণে কৃষ্ণা ও তুঙ্গভদ্রার সঙ্গমস্থলে ত্রিকোণ ভূমির উপর দাঁড়াও । কান পাতিয়া শোনো, শুনিতে পাইবে তুঙ্গভদ্রা কৃষ্ণার কানে কানে কথা বলিতেছে , নিজের অতীত সৌভাগ্যের দিনের গল্প বলিতেছে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা তুঙ্গ ভদ্রার তীরে। উপন্যাসটা পড়ার পর, মনে হয়েছিল এই জায়গাটা একবার দেখা দরকার। কান পেতে শোনার ইচ্ছে থাকলেও দক্ষিণ ভারতের প্রতি আমার খুব একটা প্রীতি ছিল না। বড় বড় মন্দির গুলো আমায় কোনদিনও টেনে নিয়ে যেতে পারিনি। কিন্তু হাম্পি নামটার সঙ্গে এমন একটা জাদু আছে তার টানেই চলে গিয়েছিলাম কর্নাটকে। কলকাতা থেকে ট্রেনে হাম্পি যেতে গেলে অমরাবতী এক্সপ্রেসে গিয়ে নামতে হবে হসপেট। ভোরে পৌঁছে হোটেলে গিয়ে বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পরা। আমি অবশ্য শুরু করেছিলাম মহীশূর থেকে। গিয়ে ছিলাম এ বছরের শীতের শেষে। ভারতবর্ষের ইতিহাসে, মানচিত্রে, কর্নাটকের হাম্পি,পাট্টাডকাল,আইহলো এই জায়গা গুলোকে  সে ভাবে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসা হয়নি। শুধু এখানকার ইতিহাস নয়, এখানকার রুপ ...

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সামতা গ্রাম।

ছবি
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  সামতা গ্রাম।  বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায়। দেউটি স্টেশন নেমে   দাঁড়িয়েছি  সামনেই দেখি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পাথরের মর্মর মূর্তি। হঠাৎ দেখাটা একটা বিস্ময় ভরে উঠলো। শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে গেল।  স্টেশন থেকে বেরিয়ে কোন দুটো অটো নেই। বর্ষা জাঁকিয়ে বসেছে। ছাতা দিয়েও মাথার রক্ষা করা যাচ্ছে না। বেশ কিছুটা হেঁটে গিয়ে গাড়ি রিজার্ভ করে যেতে হবে সামতা গ্রাম। কোথায় যাবেন আমরা বললাম শরৎ বাবুর বাড়ি। যারা শরৎচন্দ্রের লেখা পড়েছেন। তার লেখায় গ্রাম বাংলার যে চিত্র ফুটে উঠেছিল সেই চিত্র যেন আমার চোখের সামনে আবার ফুটে উঠলো। গ্রামের পুকুরে হাঁস চড়ে বেড়াচ্ছে। বৃষ্টি ভেজা দিনে বাধা গরুটি তার বাচ্ছাটির গা চেটে যাচ্ছে।  ভেজা পাখির ডাক কানে আসছে। বৃষ্টির দাপটে চোখের সামনে দেখলাম লিকলিকে একটা পেঁপে গাছ মাথার ভারে ভেঙে পড়লো। এই গ্রামে বাংলা সাহিত্যের অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জীবনের শেষ ক’টা বছর কাটিয়েছিলেন হাওড়া জেলার দেউলটি অঞ্চলের সামতা বেড়ে গ্রামে। গ্রামটি আজ ইতিহাসে অমর হয়ে আছে তাঁর স্মৃতির টানে।  স্টেশনে শরৎচন্দ্রের স্ট...

কুম্ভলগড়

ছবি
  কুম্ভলগড় । বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায়  ১৫ শতকে রানা কুম্ভ তৈরি করেছিলেন কুম্ভলদুর্গ এটাই ভারতের বৃহত্তম দুর্গগুলির মধ্যে একটি। তা ছাড়াও দুর্গটি তার বিশাল  প্রাচীরের জন্য পরিচিত যার কারণে এটিকে ভারতের গ্রেট ওয়াল বলা হয়। কুম্বলগড় দুর্গ প্রাচীর প্রকৃতপক্ষে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাচীর (চীনের মহান প্রাচীরের পরে) এবং এটি ভারতের দীর্ঘতম দুর্গ প্রাচীর। দুর্গটি একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং এর সুন্দর স্থাপত্য এবং অত্যাশ্চর্য দৃশ্যের জন্য পরিচিত।  কুম্ভলগড় দুর্গও একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। কুম্ভলগড় দুর্গ হল ভারতের রাজস্থান রাজ্যে অবস্থিত একটি বিশাল পাহাড়ি দুর্গ। মহারানা কুম্ভ পঞ্চদশ শতাব্দীতে ভারতের বৃহত্তম দুর্গগুলির মধ্যে একটি হিসাবে এই দুর্গটি তৈরি করেছিলেন। এটি দুর্ভেদ্য হওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং কিছু জায়গায় ৩৬ ফুট পর্যন্ত পুরু দেয়ালের একটি সিরিজ রয়েছে। ৩৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রাচীরটি আসলে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাচীর (চীনের মহাপ্রাচীরের পরে)। যার জন্য এই দুর্গকে বলা হয়  হিডেন দুর্গ।কুম্ভলগড়ের এই দুর্গে একাধিক গোপন সুড়ঙ্গ রয়েছে...

অঙ্গপ্রদেশ।

ছবি
বঙ্গের চোখে অঙ্গপ্রদেশ। বামা পদ গঙ্গোপাধ্যায়  রুচির সমগ্রতা বলে একটি কথা আছে। আজ যা ভালো লাগছে কালকে ভালো নাও লাগতে পারে। সেই ছোটবেলায় বেরিয়ে পড়েছিলাম ভ্রমণে। কৈশোর থেকে যৌবনে পা দেওয়ার সময় চলে গিয়েছিলাম বিহারের বিভিন্ন পর্যটন স্থানে। সেদিনও আমার মনে হয়েছিল, বিহারের মতো এতো  দেখার জিনিস ভারতবর্ষে খুব কম আছে। এখনো সেটাতেই আমি বিশ্বাস করি। ভ্রমণে গিয়ে সকলেই খোঁজেন, এই অঞ্চলটার মধ্যে আমি আছি কিনা। বিহারের প্রতিটি  অঞ্চলে, নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায় এটাই বিহারের বৈশিষ্ট্য।   এবারে গিয়েছিলাম অঙ্গপ্রদেশে। বঙ্গপ্রদেশ থেকে অঙ্গপ্রদেশে যাওয়ার জন্য, কোন মানসিক প্রস্তুতির দরকার হয় না। ১৯১২ সাল পর্যন্ত  বঙ্গ আর অঙ্গ একই জায়গায় ছিল। এই অঙ্গদেশে এসে, শুধু অঙ্গ নয়, প্রাণ এবং বায়ুর দুটোরই পরিবর্তন হয়েছে। হয়েছে চোখের আরামবোধ। বঙ্গের মানুষ, বিহারের নাম শুনলে একটু ভয় পান। কেন পান আমি ঠিক জানিনা। এই সেপ্টেম্বর মাসে আমি রাত্রি দশটা এগারোটা পর্যন্ত, অঙ্গ প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি, না দেখেছি কোন রাজনৈতিক ডামাডোল, না পেয়েছি কোনো কিছুর ভয়।  বাঙালির বা...

আইফেল টাওয়ারের বিয়ে!

ছবি
আইফেল টাওয়ারের বিয়ে! বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায়  হীরা বাবু কানে কানে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এরা কি আইফিল টাওয়ার রং করবে? সেই জন্যই কি ওরা এসেছে? কারা? এই যে এরা? এরা কারা? তাকিয়ে দেখি  ভারতের একটি বিখ্যাত রঙ কোম্পানির প্লাকার্ড নিয়ে অনেক মানুষ  দাঁড়িয়ে আছেন । কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে, কেউ এদিক ওদিক ঘুরছেন। হীরাবাবু তাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, কতজন এসেছেন? তার উত্তরে শোনা গেল ১০০ জনের বেশি লোক এসেছেন রঙ কোম্পানি থেকে। হীরা বাবু আমাকে জিজ্ঞেস করলেন : ১০০ জন মিলে পারবে এত বড় আইফেল টাওয়ারকে রঙ করতে? এর উত্তর আমার জানা নেই। অনেক কষ্টে তাকে বোঝালাম  এরা রঙ কোম্পানির ডিলার। ওরাও ভ্রমণ করতে এসেছেন । আইফেল টাওয়ারকে রঙ করতে কত রঙ লাগে? শিল্পচর্চা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান প্যারিস । কোন মিউসিয়ামে, কোন স্কুলে, পার্লামেন্ট এ কি রঙ হবে, এই নিয়ে বহুবার ফ্রান্সে আন্দোলন পর্যন্ত হয়েছে। ফ্রান্স পৃথিবীকে উপহার দিয়েছে বড় বড় চিত্রকরদের। ফ্রান্সের মানুষজন একটু উন্নাসিক। আত্মমগ্নতায় ডুবে থাকেন। ইংরেজি জানা মানুষদের সঙ্গে একদমই কথা বলতে চান না। ফ্রান্সের এক কফি শপে পরিচয় হয়েছিল এক তরুণ শিল্পীর সাথে। ত...

ইউরোপের বিড়াল

ছবি
ইউরোপের বিড়াল বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায় আমার বন্ধু বিপুল  হঠাৎ করে আমার হাতটা টেনে ধরল।আমরা হাঁটছিলাম ফ্রান্সের এক রাস্তায়। জায়গাটা তেমন জনবহুল নয়। রাত হয়েছে, তবুও সূর্য ডুবি নি। কেউ কোথাও নেই বিপুল আমার হাতটা টেনে ধরল কেন? তাকিয়ে দেখি একটা বিড়াল রাস্তা ক্রস করে  উল্টো দিকে দৌড়ে চলে গেল। মানে বিড়াল রাস্তা কেটে দিল। এক পলকে ভাবি বিপুল বহুদিন লন্ডনে আছে, তার ভিতরেও রয়েছে সেই ভারতীয়  কুসংস্কার! মুখে কিছু না বলে আমিও দাঁড়িয়ে পড়লাম।  ভারতে রাস্তায় বেড়াল মানে একটা অশুভর ইঙ্গিত। বিড়াল যদি রাস্তা পার হয়ে যায়, সমস্ত চালক গাড়ি থামিয়ে দেয়। অন্য কেউ সেই রাস্তা পার হয়ে যাওয়ার পর সেই চালক আবার যাত্রা শুরু করেন। যারা বড় বড় ট্রাক বা লরি চালান তাদের কাছে বিড়াল বিরাট শত্রু। কেন যে এই সংস্কার  সেটা এখনো অনুমান করতে পারিনি।  ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় একই নিয়ম বিড়াল রাস্তা পার হলেই, গাড়ি থেমে যায়। তাহলে কি ইউরোপিয়ান দেশগুলো ভারতীয়দের মতো বিড়ালের প্রতি কুসংস্কারাচ্ছন্ন?  লন্ডনের বেকার স্ট্রিটের কাছে আমার এক বন্ধু  দোকানে চাকরি করেন। এবার তার সাথে...

গাড়োয়ালের সুন্দর গ্রাম উর্গম

ছবি
গ্রামের নাম উর্গম  বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায় । গাড়োয়াল হিমালয়ের পবিত্র গ্রাম উর্গম। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস এখানে একসময় কেদারের মন্দির ছিল। নর ও নারায়ণ তাঁদের আরাধনাস্থল হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন উর্গমকে। সেই গ্রামে যেতে হবে হেলং ছুঁয়ে। হেলং-এর পাশ দিয়ে গর্জন করতে করতে বয়ে যাচ্ছে অলকানন্দা। তার বুকের ওপর দিয়ে সেতু। হেলং থেকে এই সেতু প্রায় এক কি.মি. দূরে। হেলং থেকে দেখা যায় ব্রিজের ওপর দিয়ে সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত লোক চলাচল করছে।এক সময় এই ব্রীজ ছিল লোহার । ব্রিজ থেকে কিছুদূরে বা ঝরনার মতো নেমে আসছে কল্পগঙ্গা। কল্পগঙ্গার সাথে মিলন হচ্ছে অলকানন্দার। তৈরি হয়েছে আরো একটি প্রয়াগ। এই পথ চলেছে কল্পেশ্বরের দিকে, এই পথ দিয়ে চলে যাওয়া যায় রুদ্রনাথে। এই পথই উর্গম যাবার পথ। দুর্গম পথ। হেলং-এর চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে আস্তে আস্তে নেমে পড়ুন ব্রিজের দিকে। রাস্তাও আছে। দোকানের সামনে থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই একটা সাইনবোর্ড: কল্পেশ্বর উর্গম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। উর্গম ব্রিজের ছবি তোলা নিষেধ। বেশ বড় ব্রিজ। পার হলেই মস্ত পাহাড়। পাহাড়ের ধার দিয়ে রাস্তা, রাস্তার ধারেই কল্প...

কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দির

ছবি
কম্বোডিয়ার  আঙ্কোরভাট মন্দির   বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায়   কলকাতা থেকে ব্যাংকক হয়ে যাচ্ছি সিয়েমরিয়েপ। কোথায় যাচ্ছি? যাচ্ছি কম্বোডিয়া। কি করতে না, আঙ্কোরভাট মন্দির দেখতে! বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হিন্দু মন্দির। এই মন্দিরটি দেখার জন্য আমার যে খুব একটা উৎসাহ ছিল তেমন নয়। যাবার সময় ভেবেছিলাম  সবাই তো যায় আমিও একবার যাই। শুধুমাত্র একটা মন্দির দেখার জন্য এতদূর আশা? ভেবে অবাকই লাগছিল ভেতরে ভেতরে। তবে হ্যাঁ, যাওয়ার আগে একটু পড়াশুনা করেছিলাম।সেটা যতটা না নিজের জন্য অন্যের জন্য পড়তে হয়েছিল। সিয়েমরিয়েপ বিমানবন্দরে নেমে  একটু অবাকই হলাম। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ এতটুকু ঠান্ডা নেই। হোটেল খুব একটা দূরে নয়। হোটেলে গিয়ে সামান্য বিশ্রাম নেওয়ার পরেই বেরিয়ে পড়লাম মন্দিরের শহর আঙ্কোরভাট দেখতে। বদ্ধ জলাশয়ের মধ্যে তো একটা ঘুর্নি ছিল মনের মধ্যে। মন্দিরের কাছাকাছি আসার পর প্রস্রবণের ধারা প্রবাহের একটা পথ খুঁজছিল। সেই পথটা দেখালেন একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী। ভিতরে ভিতরে যে প্রবাহ ধারা বয়ে চলেছিল বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ওঙ্কার ভাটের শিল্পচেতনার কথা এমনভাবে আমাকে বললেন, সেখান থেকেই এক...