একটি নক্ষত্র রাতে

 একটি_নক্ষত্র_রাতে

 বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায়  

ঢাকার সেগুন বাগিচার শিল্পকলা একাডেমির  থিয়েটার হল থেকে বেরিয়ে  চা খাচ্ছি।  অসাধারণ একটা নাটক দেখার পর মনটা বেশ উৎফুল্ল। আরো বেশি উৎফুল্ল কাল  যাব গাজীপুরের উপজেলা শ্রীপুরে। সেখানে আমার এক ভাই থাকে। তাকে বলেছি তোর ওখানে যাচ্ছি, শুধু তোকে দেখতে নয়,গ্রামের মানুষও দেখবো। কদিন ধরে  বাংলাদেশের বই মেলায় ঘুরতে ঘুরতে  বহু মানুষের বাড়িতে যাবার আমন্ত্রণ পেয়েছি। জানি কোথাও যেতে পারবো না কিন্ত কাউকে নাও বলতে পারিনি। কদিন আগে বরিশালে গিয়েছিলাম জীবনানন্দ দাশের বাড়ি দেখতে। কবি জসীমউদ্দীনের নক্সি কাঁথার মাঠ ও বরিশালে। অনেক গুলো নদী পেরিয়ে গিয়েছিলাম বরিশাল। কীর্তনখোলা,আড়িয়াল খা,সুগন্ধা,তখন মনে হয়েছিল আইতে খাল যাইতে খাল তার বাড়ি বরিশাল।নাকি কথাটা ছিল আইতে সাল যাইতে সাল তার বাড়ি বরিশাল। বরিশাল যেতে নাকি এক সাল চলে যেত!

 জীবনানন্দ দাশের বাড়ি 

 বরিশাল থেকে ঢাকা গিয়েছিলাম জাহাজে করে। সে বড় সুখের সময় ছিল। দুচোখ ভরে রূপসী বাংলার মাঠ, আর জল আর জল দেখার আনন্দ ই আলাদা। অনন্ত জীবন যদি পাই আমি  তাহলে অনন্তকাল একা পৃথিবীর পথে আমি ফিরি যদি দেখিব  সবুজ ঘাস ফুটে উঠে দেখিব হলুদ ঘাস ঝরে যায় দেখিব আকাশ। দেখিব অচেনা নারী আলগা খোঁপার ফাঁস খুলে ফেলে চলে যায় - মুখে তার  নাই  আহা গোধূলি নরম আভাস।

বাংলাদেশ নিয়ে যে ছবি আমি আঁকতে যাই না কেনো ,

তার ভিতরে আর নতুন কোন ছবি থাকবে না। যেখানে

রাখিবে হাত সেখানেই জীবনানন্দ দাশ। একই শব্দ বহুবার ব্যবহার করলে সেই শব্দের গা থেকে  পচা শুয়োরের গন্ধ বেরোয়। শব্দের ধার কমে যায়। এরকমই মনে করতেন জীবনানন্দ দাশ। নতুন শব্দের খোঁজ আমি আর কোথায় পাই? হরিচরণের অভিধান আমার নেই। বাংলাদেশ নিয়ে যা কিছুই লিখব তার প্রতিটি শব্দকে  ধার করে আনতে হবে জীবনানন্দের কাছ থেকে। 

 এরকমই একটি জাহাজে করে আমরা ঢাকা গিয়েছিলাম 


ঢাকা থেকে চলেছি গাজীপুরের দিকে। গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী  গাজীপুর সদর উপজেলায়।জয়দেবপুরের ভাওয়াল রাজার পারিবারিক কাহিনীটি একসময় বাংলার ঘরে ঘরে লোকগাথা কাহিনী হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল। আজ সেই ভাওয়াল রাজবাড়ীর কাহিনী অনেকের হৃদয়ে সুপ্ত হয়ে আছে। ভাওয়াল রাজবাড়ী পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। গাজীপুরে  ভাওয়ালের নামে একটি অভয়ারণ্য আছে  সেটাতো দেখার মতো। জিপে চেপে সাফারি করা যায়। বাঘ দেখবার  প্রবল সম্ভবনা।

গাজীপুরের মোড় থেকে আবার যেতে হবে শ্রীপুর। আমার গায়ে একটা হলুদ পাঞ্জাবি কাঁধে একটা ব্যাগ। সত্যি সত্যি সেই হলুদ পাঞ্জাবির কোন পকেট নেই। গাজীপুরের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় কলেজে পড়ুয়া গুটি কয়েক ছেলে - মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে কি যেন বলা বলি করছে। আমার কানে আসে ' হিমু ' শব্দটা। হ্যাঁ আমি হিমুকে চিনি। হুমায়ূন আহমেদের গল্প - উপন্যাসের চরিত্র হিমু। তারও হলুদ পাঞ্জাবির কোন পকেট থাকতো না। ওরা ভাবছে আমি নিশ্চয়ই  নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের বাগানবাড়িতে যাচ্ছি। আর সেখানে গিয়ে শেফালী গাছের নিচে বসে  নামাজ পড়বো। পেয়ে যাব কোন দিকশূন্যপুরের ঠিকানা।

 নতুন অভয়ারণ্য

 শ্রীপুরে পৌঁছে যাবার পর মনে হল : নিশ্চিন্তে হারিয়ে যেতে পারি প্রকৃতির কোলে। মনে হয় ঘর দোর আঙিনা  সমস্ত সন্তর্পনে ছেড়ে চলে যেতে পারেন না রাঙামামিমা। তার স্তব্ধ এলো চুলে থমকে দাঁড়িয়ে আছে গ্রামের মাঠ। গ্রামগুলো বেঁচে থাকুক তার আপন মহিমায়। অতুলনীয় সৌন্দর্য, বৈচিত্র আর ঐতিহ্যগুলোও টিকে থাকুক প্রজন্মের অহংকার হয়ে। ভাই বন্ধু মনোরমকে আমরা মনো বলেই ডাকি। শ্রীপুর বাজারে তার বড় ওষুধের দোকান। ভারতের এলে সে আমাদের পারিবারিক বন্ধু হয়ে যায়। দোকান থেকেই তার বাড়িটা একটু দূরে। মহিলা কলেজের কাছে। দোকান থেকে বেরিয়ে সে তার বাড়িতে পৌঁছে দিল আমাকে। একটি নক্ষত্র রাতে আমি  শ্রীপুরে পৌঁছেছিলাম।

মন্তব্যসমূহ

  1. একবার বাংলাদেশ যাব।

    উত্তরমুছুন
  2. Shudhu Shilpokala Academy tei natok dekhar ovignta amar achhe. Baki tuku apnar lekhar haat dhore ghurlam. Khub shundor bhromon er tukro katha.

    উত্তরমুছুন
  3. খুব ছোট লেখা। কিন্তু মনে দাগ কেটে যায়

    উত্তরমুছুন
  4. বাংলাদেশ নিয়ে ছোট্ট একটি লেখা। কিন্তু নিজের দেশকে খুঁজে পেলাম

    উত্তরমুছুন
  5. অনেক সুন্দর এবং তথ্য বহুল আর্টিকেল।
    হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন www.doridroit.com থেকে। ধন্যবাদ।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আপনার এই সুন্দর মন্তব্যের জন্য আমি কৃতজ্ঞ

      মুছুন
  6. অসাধারণ খুব ভালো লিখেছেন দাদা।

    উত্তরমুছুন
  7. লেখার দায় কি শুধু লেখকের নিজের কাছে ? নাকি পাঠকের কাছেও তার অন্যতর অর্থ বহন করে । কথাটা বলছি একারণেই, কারণ কিছু ভ্রমণ বৃত্তান্ত পড়লে কেমন যেন বাণিজ্যিক মনে হয়। যেন অনুভূতিও একটি পণ্য। কিন্তু, , আপনি বালিবধ করলেন অক্লেশে। যেন পাঠকও হেঁটে চলেছে বালির অলিগলিতে। সম্পূর্ন হোলো পাঠকের প্রতি দায়। আমার কৃতজ্ঞতা জানবেন।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই আপনাকে। আপনার নাম লিখে দেবেন।

      মুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মধেরার সূর্য মন্দির

মিশর ভ্রমণের নান্দীমুখ।

হালিশহর এক দিনের ভ্রমণ।