নীল নদের তীরে কুমিরের ঘরে
মিশর
নীল নদের তীরে কুমিরের ঘরে ।
বামাপদ গঙ্গোপাধ্যায়
আগের দিন রাতে কায়রো থেকে ট্রেনে চেপে সকালে এসে নেমেছি আসোয়ান রেলস্টেশনে। রেল স্টেশনটা যে কেমন সেটা নিয়ে আমার খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না। আমার ভাবনা ছিল কখন সেই বিখ্যাত নীল নদের বুকে লাক্সারি ক্রুজে গিয়ে উঠবো। ফিলা টেম্পল আপার বাঁধ দেখে অবশেষে আকাঙ্ক্ষিত জাহাজে উঠলাম। জাহাজের যে কেবিনটা আমাকে দেয়া হয়েছিল সেটা অসাধারণ। একদম ফাইভ স্টার হোটেল। কেবিনের কাঁচের জানলা খুলে দিলে দিগন্ত জুড়ে আকাশ, নীল নদের নীল জল টলমল করছে।
![]() |
| হোরাসের মন্দির |
ঘুম থেকে উঠে দেখি জাহাজ এতটুকু নড়ে বসেনি। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। মনটা খারাপ হয়ে গেল। আমাদের জাহাজ চলা শুরু হলো সকাল সাড়ে ন'টায়। গাইড বললো ঠিক তিনটের সময় আমরা যাব কোমোম্বো মন্দিরে। এই মন্দিরটা নিয়ে আমি আগে থেকে একটু শুনেছিলাম। কিন্তু খুব কিছু ভাবনা আমার ছিল না। আমরা যেখানে নামলাম সে জায়গাটির নাম ইজবাত আল বায়রা। আসোয়ান থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। প্রথমে আমি জায়গাটার নাম ভালো করে উচ্চারণ করতে পারছিলাম না। নাম যাই হোক না কেন একটু হেটে যাবার পর দেখি সোনার মত ঝকঝক করছে পাথরগুলো। ওটাই নাকি কোমোম্বো মন্দির। মন্দিরের দুপাশে নীল নদের জল টলমল করছে। তার মধ্যে যেন সোনার কেল্লা। হলুদ পাথরে রোদ পরে ঝলমল করছে। মিশরের রাজারা যেখানে পারতেন একটা করে মন্দির তৈরি করতেন। এটা আবার কিসের মন্দির? গাইড বলল এটা কুমিরের মন্দির। সে কি কুমিরের মন্দির? কুমির এখানে দেবতা? এখানে নাকি কুমিরের মমিও পাওয়া গেছে।কুমিরের পুজোর কথা আমি পড়েছি। রাজস্থান গুজরাটে খোড়িয়া সম্প্রদায় কুমিরের পুজো করেন।যে দেবীর পূজা করা হয়, তাঁর নাম খোড়িয়া মাতা। কাকতালীয়ভাবে ওই দেবীর বাহন কুমির। ভারতে গঙ্গা দেবীর বাহন মকর। কিন্তু সেভাবে পুজিত নন।
ইন্দোনেশিয়ার পাশে ছোট্ট একটি দেশ তিমুর। সেই দেশের মানুষ কুমিরকে পুজো করে। সমস্ত গল্প ইতিহাসে পূজা পার্বণে কুমিরকে উৎসর্গ করে। সেই দেশের জন্মের ইতিহাস নাকি কুমির। কবি শামসুর রাহমানের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে তিমুরের কুমির নিয়ে ।
![]() |
| সন্ধ্যেবেলার মন্দির |
মিশরে সবকিছুর মধ্যে দেবতার বাস। তাহলে কুমির কেন বাদ যাবে। মানুষ যাকে ভয় পায় তাকেই ভক্তি করে, পুজো করে। আমাদের দেশে এরকম উদাহরণ প্রচুর আছে। বৈষ্ণোদেবীতে বাঘের পিঠে মা দুর্গা। সুন্দরবনে বাঘের পিঠে মা বনবিবি। নীল নদে জলে কুমির থাকবেনা এটা কেউ ভাবতে পারে! আজ হয়তো কম আছে । খ্রিস্টপূর্ব ২০০ বছর আগে এই নীল নদে চারিপাশে ঘুরে বেড়াতো অসংখ্য কুমির। ইজবাত আল বায়রা একসময় ছিল বন্দর নগরী। জলপথেই মানুষ আসতেন ব্যবসা করতে। মিশরের নাইল ক্রোকোডাইল ছিল প্রচন্ড হিংস।নদীতে স্নান করতে গিয়ে কত মানুষকে যে কুমিরে টেনে নিয়ে গেছে তার ঠিক নেই। কুমিরের যখন এতই উৎপাত, চলো তাকে পুজো করি। মন্দির গড়ি। মন্দিরের সূত্রপাত করেছিলেন ফারাও ষষ্ঠ টলেমি ফিল মিটার। সময়টা হল যীশুর জন্মের একশ আশি বছর পূর্বে।কোমোম্বো মানে "স্বর্ণের পাহাড়" যেহেতু আরবীতে "কম" শব্দের অর্থ "পাহাড়" এবং হায়ারোগ্লিফিকসে "ওম্বো" শব্দের অর্থ সোনা।
![]() |
| মূল মন্দিরের দুটো গেট |
তার আগের গল্প একটু বলি। কি করে কুমির দেবতা হলো? সব সভ্যতাতেই মানুষ দেবতা সৃষ্টি করেছেন প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে। মানুষ যখন প্রকৃতির প্রাণী, সূর্য,সমুদ্র, নদী ইত্যাদির কাছ থেকে ক্রমশ হারতে থাকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে তখনই সেই তার আরাধ্য হয়ে ওঠে মানুষের কাছে। নীল নদের পূর্ব দিকে মানব সভ্যতার বিকাশের আগে বাস সেখানকার আদিবাসীরা। তাদের ক্ষমতা ছিল না নীল নদের কুমিরের সাথে লড়াই করা। বলা হয় নীলনদের বিভীষিকা নীল নদের কুমির। এখন প্রশ্ন তৈরি হলো তাদের মনে, কুমির দেবতা হবেন না অপদেবতা হবেন ? কেউ বলল : কুমির দেবতা হোক কেউ বলল: আমাদের ধ্বংস করছে ওকে অবদেবতা বল। এই দ্বন্দ্বে জন্ম নিল সোবেক। তিনি না দেবতার না অপ দেবতা। কুমিরের হিংস্রতা যত বেড়েছে সোবেক তত বেশি পুজো পেয়েছেন । সোবেক সেই সময়ে এতো বিখ্যাত হয়ে গেলেন, দেখা গেছে কিছু রাজা এবং রানীরা নিজেদের নামের পাশে সোবেক শব্দটা জুড়ে নিতেন ।
![]() |
| সোবেক |
দেবতা হিসেবে সোবেকের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আর কোন প্রশ্ন রইলো না।বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন রকম বিশ্বাস নিয়ে সোবেকের কাছে গেছেন। সেই সময় মিশরে যারা গর্ভবতী হতে পারছেন না তারা সোবেকের দ্বারস্থ হয়েছেন পুজো করেছেন । আর যে সমস্ত মহিলাদের কুমির জলের তলায় নিয়ে গেছে তাদের কাছে তিনি অপদেবতা।সোবেকের নাকি যৌন চাহিদা প্রচুর। সোবেক তাদের গোপন কুঠুরিতে রেখে দিতেন এবং যৌন হেনস্থা করতেন।এটাও একটা বিশ্বাস। পুজো করার আরেকটা কারণ অবশ্য আছে। প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে মানুষের থেকে জীবজন্তুরা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথা আগে থেকেই বুঝতে পারে। কুমির গভীর জলে চলে যাওয়া মানেই তার দিন ১৫ মধ্যেই নীল নদে বন্যা আসবে।
![]() |
| মন্দিরের গায়ে কোথায় চিত্র |
কোমোম্বো মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে দেখছি নীলনদকে। হঠাৎ পিছন থেকে আমাদের গাইড আমাকে ডেকে বললেন, একটা জিনিস দেখবেন? আমি বললাম কি দেখাবেন? বললেন, মানুষের মমি তো দেখেছেন কুমিরের মমির কথা দেখেছেন বা শুনেছেন কোনদিন ? আমি বললাম শুনেছি, দেখিনি কখনো। গাইড আমাকে বললেন ৩০০ টা কুমিরের মমি ছিল এখানে। জায়গাটা দেখুন। সেকি কে বানালো? কঠিন ইংরেজি শব্দ উচ্চারণের ভেতর দিয়ে যা বললেন তা হলো জিজ্ঞাসা করলাম, কুমিরের মমি কেন ? টলেমি বংশের এক ফারাও-এর ছেলে নদীর তীরে খেলতে গিয়ে হঠাৎ কুমির তাকে নিয়ে যায় জলের নিচে । বাবা দুঃখে হতাশায় ক্রুদ্ধ হয়ে সব ভুলে আদেশ দিয়ে দিলেন, সব কুমির মারো। হত্যা করা হয় ৩৫০টা মতো কুমির। কিন্তু সোবেক তো দেবতা। অভিশাপের ভয়ে ঘটা করে কুমিরদের মমি বানিয়ে কবর দিলেন কোমোম্বো মন্দিরের ঠিক পাশেই।মিশরের যত মন্দির আছে তার মধ্যে সবচেয়ের বিখ্যাত মন্দির হলো এটি । এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একই সাথে রয়েছে দুটি মন্দির। আর দুটো মন্দির এমন ভাবে মিশে আছে কারুর বোঝোর ক্ষমতা নেই। গাইড যদি বলে না দিতেন আমরা জানতে পারতাম না দুটো আলাদা মন্দির। একটি মন্দির সোবেকের আর একটি মন্দির হোরাসের।
![]() |
| মন্দির থেকে নীলনদ |
মন্দিরটি দুটি ভিন্ন দেবতাকে উৎসর্গ করার জন্য তৈরি হয়েছিল। কুমির-মাথাযুক্ত দেবতা সোবেক, বাজপাখি দেবতা হোরাস দ্য এল্ডার (এছাড়াও হারোরিস নামে পরিচিত)। এই দ্বৈত উৎসর্গ ইচ্ছাকৃত ছিল. এটি শুধুমাত্র স্থাপত্যগতভাবে সদৃশ নয়, দুটি সেট, যমজ মন্দিরটি স্থানীয় এবং সর্বজনীন থিমের প্রতীকী যা দুটি ভিন্ন দেবতার প্রতিনিধিত্ব করে। দুটো মন্দিরে দুটো প্রবেশ পথ।এসব মন্দিরের ইতিহাস এত কঠিন। সব মনে রাখা ভীষণ শক্ত। আমাদের মহাভারতের জটিল ব্যাপারগুলো যদি কোন বিদেশীকে বোঝানো হয় তার যেমন অবস্থা হয়,ঠিক আমারও তেমন অবস্থা হয়েছিল। তারমধ্যে গাইডের জটিল ইংরেজি!
![]() |
| কুমিরের মাথা |
এতো গেল মন্দিরের ইতিহাস। এবার বলি মন্দিরে কি দেখেছি। এখানে দেখাটাও খুব কঠিন। ইজিপ্টের মাইথোলজি না জানলে ছবিগুলোকে পাথরে খোদাই করা ছবি ছাড়া আর কিছুই মনে হবে না।বুঝার উপায় নেই সাদা চোখে। গাইড ছাড়া মিশরের মন্দির দেখলে মনে হবে সব মন্দিরই এক। একই রকম ছবি। কিন্তু আমি যত মন্দির দেখেছি নীল নদের ধারে,তার মধ্যে এই মন্দিরটি আমার কাছে মনে হয়েছে আকর্ষণীয় এবং কঠিনতম মন্দির।
কায়রোর মিউজিয়ামে এসে কুমিরের মমি দেখে মনে হয়েছে হয়তো মিশরের একমাত্র দেবতাই হয়তো কুমির।
কুমিরের জাদুঘর
প্রাচীন মিশরীয়রা জন্তুদের মমি করেছিল। আসওয়ানের কাছে কোমোম্বো মন্দিরের কাছে, মিশরে রয়েছে কুমির জাদুঘরটি পৃথিবীর প্রথম এবং বৃহত্তম কুমিরের জাদুঘর । এখানে ৪০টি অনাবিষ্কৃত কুমিরের মমিগুলির মধ্যে প্রায় ২০টি প্রদর্শন করে রাখা হয়েছে। এছাড়াও, জাদুঘরে কাঠের কুমিরের সারকোফাগি, সেইসাথে কুমিরের ডিম, ভ্রূণ এবং কুমিরের দেবতা সোবেকের একটি মূর্তি প্রদর্শন করা হয়েছে।
![]() |
| জাদুঘরে কুমির |
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল কেন প্রাচীন মিশরীয়রা কুমিরকে মমি করা বেছে নিয়েছিল। মমিকরণের উদ্দেশ্য ছিল মৃত্যুর পরে আত্মার ফিরে আসার জন্য একটি স্থান (শরীর) ছেড়ে দেওয়া। তদুপরি, প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করত যে কিছু প্রাণীর আধ্যাত্মিক তাত্পর্য রয়েছে, যার জন্য মমিকরণের প্রয়োজন ছিল। কোমোম্বোতে কুমিরদের জয় করার ক্ষমতার জন্য ভালভাবে সম্মান করা হত, যা তাদের শক্তি এবং কুমির দেবতা সোবেকের সাথে সম্পর্ককে প্রতিনিধিত্ব করে।










অপূর্ব, অসাধারণ
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ
মুছুন"কতো অজানারে জানাইলে তুমি-' - - - শুভেচ্ছা অফুরান।
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ।
মুছুনদারুণ এগুলো সবই আমরা দেখেছি আর গাইডার ইংরেজি শুনে কিছুটা বুঝেছিলাম বাদবাকি লেখা হবঝপড়ে
উত্তরমুছুনThanks
মুছুনএগুলো সবই দেখেছি।গাইডের কথা শুনে কিছু বুঝেছিলাম বাদবাকি আপনার লেখা পড়ে বুঝলাম।
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক শুভেচ্ছা।
মুছুনKhub khub bhalo Lekha porlam
উত্তরমুছুনThanks
মুছুনহারিয়ে গেলাম।
উত্তরমুছুনঅনেক অজানা তথ্য জানা যায়। ভালোবাসা লাগলো।
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো।
উত্তরমুছুনঅনেক শুভেচ্ছা
মুছুনখুব ভালোবাসা লেখা।
উত্তরমুছুনThanks
মুছুনKhub khub sundr lekha
উত্তরমুছুনঅনেক ধন্যবাদ
মুছুনঅসাধারণ একটি লেখাপড়া। এভাবে মিশরকে নিয়ে লেখা আমি পড়িনি। ধন্যবাদ
উত্তরমুছুনআমার শুভেচ্ছা নেবেন
মুছুনমিশর কে নিয়ে অনেক অজানা তথ্য জানলাম, অসাধারণ লেখনী 👌
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক ধন্যবাদ
মুছুনKHUB BHLO LEKHA
উত্তরমুছুনBhalo laglo.Enjoy Kollam,notun oviggota orjon Kollam,lekhatai detailing ta khub e sundor.
উত্তরমুছুনধন্যবাদ জানাই আপনাকে
মুছুনকত কি জানতে পারলাম। অসাধারন রচনা।
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে
মুছুনDarun
উত্তরমুছুনঅশেষ ধন্যবাদ
মুছুনKhub bhalo laglo
উত্তরমুছুনঅনেক শুভেচ্ছা রইল
মুছুনখুব ভালো লাগলো আর অনেক কিছু জানলাম।
উত্তরমুছুনআপনি আমার শুভেচ্ছা নেবেন
মুছুনঅসাধারণ অনেক নতুন করে জানতে পারলাম ।আপনার লেখা পড়তে পড়তে নিজেকে হারিয়ে ফেলি।
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক ধন্যবাদ
মুছুনখুব সুন্দর
উত্তরমুছুনঅশেষ ধন্যবাদ জানাই
মুছুনইতিহাস যা জানাতে পারেনি, আপনার লেখনী পড়ে তাই জানলাম।
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ
মুছুনসত্যি গাইডের বোঝানো তো এতো ভালোভাবে বুঝিনি।খুব ভালো লাগলো বর্ণনা পড়ে।
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক শুভেচ্ছা
মুছুনঅপূর্ব।
উত্তরমুছুনঅসাধারন,কুমীর ও এরকম পূজনীয় হয়ে রয়েছে।তা জানা ছিলনা।
উত্তরমুছুনঅসংখ্য ধন্যবাদ
মুছুনদারুন লেখা। আপনার লেখা গুলো পড়ি। মন্তব্য করি। কিন্তু আপনি কোন উত্তর দেন না?
উত্তরমুছুনদাদা সব জায়গায় আমি উত্তর দি। যদি ভুল হয় তবে আর হবে না। ভালো থাকবেন।
মুছুনশিখলাম অনেক কিছু......
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক ধন্যবাদ
মুছুনখুব ভালো লিখেছ বামাদা। ছবির মতো ফুটে উঠল।
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক শুভেচ্ছা
মুছুনখুব ভালো লাগলো। নমষ্কার নেবেন
উত্তরমুছুনধন্যবাদ
মুছুনkhun bhlo lekha .
উত্তরমুছুনধন্যবাদ
মুছুনNice verynice writing
উত্তরমুছুনThanks
মুছুনখুব সুন্দর লাগল পড়তে, এত সুন্দর লেখা যে সামনে যেন দেখতে পেলাম মন্দির গুলো ❤❤
উত্তরমুছুন